হতদরিদ্রদের কল্যাণে

30

gourbangla logoইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে এক কোটি হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে ১০ টাকা কেজিতে চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নিঃসন্দেহে উদ্যোগটি মহৎ এবং কল্যাণকর। মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে প্রকল্পটির বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ ধরনের কার্যক্রম ২০১১ সালে নেয়া হলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। নিয়ম অনুযায়ী কার্ডের মাধ্যমে এ বাছাইপর্ব সম্পন্ন করা হয়। এ কারণে ইউনিয়ন এবং উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের নিয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি এবং স্থানীয় সাংসদ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিয়ে উপজেলা কমিটি পরিচালিত হয়। গ্রাম-গঞ্জে এখনও অনেক মানুষ হতদরিদ্র, স্বল্প ও নিম্ন আয়ের। খেটে খাওয়া এসব লোক সারাবছর সব সময় ভালভাবে দিন কাটাতে পারে না। অভাব-অনটন নিয়েই তাদের নিত্যদিনের জীবনপ্রবাহ। তাদের সংখ্যা অপ্রতুল হলেও নিতান্ত কম নয়। বছরের একটা বিশেষ সময় অর্থাৎ ফসল ঘরে ওঠার আগে এসব মানুষ আর্থিক সঙ্কট এবং অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটায়। এ বিবেচনায় সরকার দুই কিস্তিতে চাল বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথম কিস্তি মার্চ থেকে এপ্রিল। পরেরটি সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর।উল্লেখ্য, বাজারমƒল্যের চেয়ে বেশি, অর্থাৎ ৩১ টাকা কেজি দরে দুই লাখ মেট্রিক টন আমন চাল সংগ্রহ করেছে সরকার। আরেকটি বিষয়, এখন পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে দেশের গুদামগুলোয়। তাই নতুন করে চাল গুদামজাত করার ক্ষেত্রে আগামীতে স্থান সঙ্কট হতে পারে। এ সঙ্কটের ব্যাপারে সরকার সচেতন বলেই কম মূল্যে খোলাবাজারে (ওএমএস) চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়। এই কার্যক্রম আরো জোরদার করা দরকার। আমরা মনে করি কার্ডের মাধ্যমেও দুস্থদের মাঝে বিনামূল্যে চাল বিতরণের সুযোগ কাজে লাগানো দরকার। খাদ্য নিরাপত্তা দেবার জন্য তা প্রয়োজনও বটে। তাছাড়া গ্রাম পর্যায়ে ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচীর ধরনে ছোট ছোট প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমেও শ্রমমূল্য হিসেবে চাল প্রদানের সুযোগ কাজে লাগানো যায়। তবে খাদ্য সংরক্ষণে আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরে এখনই দৃষ্টি দেয়া দরকার। স্বল্পমূল্যে চাল বিক্রির ক্ষেত্রে দুটি বিষয় দেখা দরকার। প্রথমত প্রকৃত দরিদ্রদের মাঝেই স্বল্পমূল্যে চাল বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করা দরকার। অনেক সময় চাল বিতরণের কাজে যুক্ত কর্তাব্যক্তিরা দরিদ্র নয়, এমন চেনাজানা নিজের লোকদের চাল কেনার সুযোগ করে দেন বলে এখন অভিযোগ ওঠে। তাছাড়া ‘সস্তার তিন অবস্থা’ এমনটি যেন না হয়। অর্থাৎ দুর্গন্ধযুক্ত অতিনিম্নমানের চাল যেন স্বল্পমূল্যে বিক্রির জন্য নির্ধারণ করা না হয়। ফলে দরিদ্র মানুষের জন্য এ ধরনের প্রকল্প সবসময় আশার আলো নিয়ে আসে। নীতিনির্ধারক এবং পরিচালনা কমিটির দায়িত্বশীল ভূমিকায় কার্যক্রমটির সফল বাস্তবায়ন সম্ভব। সরকার অনুমোদিত বিভিন্ন জনকল্যাণকর কর্মসূচী সব সময় সাধারণ মানুষের হিতার্থেই গৃহীত হয়। কিন্তু এসব কর্মসূচীতে অনেক সময় অনিয়ম এবং ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়ার অভিযোগ ওঠে। হতদরিদ্র মানুষদের যথার্থভাবে চিহ্নিতকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এখানে ত্রুটিপূর্ণ বাছাই প্রকল্পের সফলতার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে উঠতে পারে। সরকার বরাদ্দকৃত জনপ্রতি ৩০ কেজি চালের ব্যাপারে কোন রকম দুর্নীতির ছায়া পড়ুক তা কাম্য নয়। সুষ্ঠু এবং যথার্থভাবে কার্যক্রমটি পরিচালিত হলে যাদের জন্য এ প্রকল্প তারা সত্যিকারার্থে লাভবান হবে।

SHARE