আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করেনি ফনসেকা

41

05-Mossack-Fonsecaবিশ্বজুড়ে র্রাীয় সম্পদ লুণ্ঠনকারী র্রাপ্রধানদের আইনি পরামর্শদানকারী পানামাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মোস্যাক ফনসেকার বেশ ক’জন মক্কেলের বিরুদ্ধে আগে থেকেই যুক্তরা্েরর নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। আর তা জানার পরও ওই প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দিয়ে গেছে ফনসেকা। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের ফাঁস হওয়া প্রায় ১১ মিলিয়ন নথিপত্রে উঠে এসেছে এমন তথ্য। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, মোস্যাক ফনসেকা কাজ করতো এমন ৩৩ ব্যক্তিত্ব ও কোম্পানির বিরুদ্ধে ইউএস ট্রেজারির তরফে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। এগুলোর মধ্যে ইরান, জিম্বাবুয়ে ও উত্তর কোরিয়ায় অবস্থিত বেশ কয়েকটি কোম্পানি রয়েছে। একটির আবার উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিতা ছিল। এসব কোম্পানিগুলোকে নিজস্ব নামে নিবন্ধন করতো ফনসেকা। আর সেকারণে এসব কোম্পানির সত্যিকারের মালিকদের শনাক্ত করা সম্ভব হতো না।
বিবিসির খবরে বলা হয়, ফনসেকার সঙ্গে কিছু কিছু কোম্পানির সম্পর্কটা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আগেই শুরু হলেও কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার পরও বেশ কয়েকটি কোম্পানিকে সহায়তা করে আসছিল ফনসেকা। এরকম একটি কোম্পানি হলো ডিসিবি ফিন্যান্স। কোম্পানিটি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মালিক এ পরিচালকরা সবাই পিয়ংইয়ংয়ের। উত্তর কোরিয়ার জন্য তহবিল সংগ্রহের অভিযোগে এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহায়তার কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইউএস ট্রেজারি। ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা যায়, পিসিবি ফিন্যান্স এর মালিকরা হলেন, উত্তর কোরিয়ার নাগরিক চোল স্যাম ও ব্রিটিশ ব্যাংকার নিগেল কোয়ি। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দায়েদোং ক্রেডিট ব্যাংকেরও সিইও ছিলেন নিগেল।
তবে এগুলো জানার পরও ফনসেকা তা এড়িয়ে গিয়েছিল। তবে ২০১০ সালে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যোগাযোগ ও তদন্ত করার পর ওই বছর ডিসিবি ফিন্যান্সের হয়ে কাজ করা বন্ধ করে ফনসেকা।
উল্লেখ্য, মোস্যাক ফনসেকা নামক আইনি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১১ মিলিয়ন নথিপত্র ফাঁস হওয়ার পর সামনে এসেছে বিশ্বজুড়ে ক্ষমতাধরদের অর্থ কেলেঙ্কারির ভয়াবহ তথ্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধনী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তি থেকে শুরু করে র্রাপ্রধান পর্যন্ত কিভাবে কর ফাঁকি দিয়ে সম্পদ গোপন করেন এবং কিভাবে অর্থ পাচার করেন;তা উন্মোচিত হয়েছে নথিগুলো ফাঁস হওয়ার পর। ফাঁস হওয়া গোপনীয় এই নথি-পত্রগুলো থেকে দেখা যায়,পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মোট ৭২ জন বর্তমান ও সাবেক র্রাপ্রধান নিজেদের দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করছেন। মোস্যাক ফনসেকা নামক আইনি প্রতিষ্ঠানটি নির্দি ফি নেওয়ার মাধ্যমে মক্কেলদের বেনামে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। এর মাধ্যমে তারা সম্পদ গোপন এবং কর ফাঁকি দিয়ে ওই অপ্রদর্শিত আয়কে বৈধ উপায়ে ব্যবহারের সুযোগ পান। মোস্যাক ফনসেকাই এসব বেনামি কোম্পানির দেখাশুনা করে থাকে। যদিও ব্রিটিশ আইল্যান্ড, পানামার মতো দেশগুলোতে বৈধ উপায়ে কর ছাড়াই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ার সুযোগ রয়েছে, কিন্তু ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা যায়, সেখানে কোম্পানি গঠন করা হচ্ছে প্রকৃত স্বত্বাধিকারীর পরিচয় এবং অর্থের প্রকৃত উৎস গোপন করার মাধ্যমে। একজন বড় শিল্পপতি, যিনি কর ফাঁকি দিতে চাচ্ছেন অথবা একজন আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ী অথবা একজন স্বৈরশাসক ওই পদ্ধতিতে তার অপ্রদর্শিত বা অবৈধ অর্থ বৈধ করে নিতে পারেন। মোস্যাক ফনসেকার দাবি, তাদের দেখাশোনা করা কোম্পানিগুলো কর ফাঁকি, অর্থপাচার, সন্ত্রাসী কাজে অর্থ যোগান দেওয়া বা অন্য কোনও বেআইনি কাজে জড়িত নয়।

SHARE