সড়কে মৃত্যুর মিছিল

39

gourbangla logoদেশে প্রতিদিন গড়ে ২৪ জনের প্রাণহানি ঘটছে সড়ক-মহাসড়কে। তার চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যায় জখমের ঘটনাও ঘটছে। জখমদের অনেকেই আবার স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে। এসব ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনার কারণেই। একটি জাতীয় দৈনিক দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনার করুণ চিত্র তুলে ধরেছে। শুধু একটি নয়, দেশের সব ধরনের গণমাধ্যমই প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনার খবর ছেপে চলেছে। কখনও কখনও এই সব খবরের সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মতামত দিচ্ছে, মতামত দিচ্ছে ভুক্তভোগী বা প্রত্যক্ষদর্শীর। এছাড়া বড় বড় দুর্ঘটনা সরকার তদন্ত কমিটি করে দিচ্ছে। এ সবের অনেক কমিটি তাদের রিপোর্ট দিচ্ছে। কিন্তু অবস্থার কোন উন্নতির লক্ষণ নেই। আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতায় যন্ত্রযানের প্রাবল্য থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে সেই যন্ত্রযান সাধারণ মানুষের নৈমিত্যিক মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াবে তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু কাঙ্খিত বা গ্রহণযোগ্য না হলেও দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। এ বিষয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্টরা আদৌ কিছু করছে না এমনটাও নয়। কিন্তু সমস্যা বা দুর্ঘটনার তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল। অথবা যে ব্যবস্থা নেয়া দরকার সে ধরনের ব্যবস্থা নেয়াই হচ্ছে না। সব ধরনের বিকল্প থাকা সত্তে¦ও দেশে দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে সড়ক যোগাযোগ, হুহু করে বেড়ে চলেছে যানবাহনের সংখ্যা। জীবনের গতি বাড়ানোর জায়গায় অনেক ক্ষেত্রে তা জীবন যাত্রার গতিকে স্থবির করে দিচ্ছে আর কেড়ে নিচ্ছে মানুষের জীবন। যদি সড়কের উপর চাপ কমানো যেত তাহলে নিশ্চয় অনেক দুর্ঘটনাই এড়ানো সম্ভব হতো। সেই ক্ষেত্রে আমাদের চাওয়া দেশে রেল, নৌ ও আকাশপথের যোগাযোগ বাড়ানো হোক। যে সব নৌপথ বন্ধ হয়ে গেছে নদী বা খাল খনন করে তা আবার সচল করা হোক। দরকার মত সংস্কার করা হোক হাজামজা নদীনালা। পাশাপাশি আধুনিক ও গতিশীল করার সাথে সাথে রেল যোগযোগ ব্যবস্থাকে ছড়িয়ে দেয়া হোক সারা দেশে। আকাশ যোগাযোগে আরও জোর দেয়া হোক। এটাকে গড়ে তোলা হোক উন্নত দুনিয়ার উপযোগী করে। সব ধরনের বিকল্পের পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগকে ঝুঁকিমুক্ত করতে তার ত্রুটিগুলো দূর করতে হবে। সেইসাথে রাস্তা গুলোও সংস্কার এবং প্রসস্ততাও বাড়াতে হবে। যানবাহন গুলোকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মূলতঃ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বহুমুখী ও আধুনিক না করা গেলে এই মৃত্যুর মিছিল থামানোর কোন বিকল্প খুঁজে কঠিন হবে।

SHARE