রাখাইনে ত্রাণ প্রবেশে বাধা নেই : মিয়ানমার

31

রাখাইন রাজ্যে ত্রাণ কর্মীদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেছে মিয়ানমার সরকার। তবে নিরাপত্তা বিবেচনায় সেখানে প্রবেশাধিকা সীমিত রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়। মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জাউ হতাই শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, আমরা কাউকেই (সেখানে প্রবশে) বাধা দিচ্ছি না। আমরা কোনো সংগঠনকে ওইসব এলাকায় ত্রাণ পাঠাতে বাধা দিচ্ছি না। তবে নিরাপত্তার কারণে স্থানীয় প্রশাসন সেখানে প্রবেশ সীমিত রাখায় ওইসব এলাকায় ঢোকা কঠিন হয়ে পড়েছে। মিয়ানমারের সমাজকল্যান, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী উইন মিয়াত আইয়ে বলেন, এখন পর্যন্ত সংঘাতময় এলাকায় বিদেশি কোনো ত্রাণ সংস্থা প্রবেশ করেনি। তবে এ ধরণের কোনো সংস্থাকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে কিনা না এমন প্রশ্নে জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
বলেন, এসব সরকার পরিচালিত কার্যক্রম। গত ২৪ অগাস্ট রাতে বিদ্রোহী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ) রাখাইন রাজ্যে একসঙ্গে ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনা ক্যাম্পে হামলা চালায়। হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার পর থেকে রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে সেনা অভিযান শুরু হয়। প্রাণ বাঁচাতে এরইমধ্যে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা সেখানে সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতন-নিপীড়নের বর্ণনা দিচ্ছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাগুলোও রাখাইনে মানবাধিকারের চরম সংকটের কথা বলেছে। সেখানে সেনাবাহিনী মূলত জাতিগত নির্মূল অভিযান চালাচ্ছে বলে দাবি তাদের। অ্যামনেস্টির পক্ষ থেকে স্যাটেলাইটে তোলা ছবি প্রকাশ করে বলা হয়, গত তিন সপ্তাহ ধরে সেখানে ‘খুবই পরিকল্পিতভাবে একটি নির্দিষ্ট ছকে গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়ার’ ছবি এখানে উঠে এসেছে। যদিও মিয়ানমার সরকার বলছে, সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে এআরএসএ জঙ্গি দমন অভিযান চলাচ্ছে এবং বেসামরিক লোকজন তাদের লক্ষ্য নয়। সংঘাতময় এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতে এআরএসএ এক মাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও মিয়ানমার সরকার তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তারা জঙ্গিদের সঙ্গে কোনো ধরণের আলাপে যাবে না। কয়েকটি ত্রাণ সংস্থা জঙ্গিদের খাবার সরবরাহ করছে বলেও অভিযোগ মিয়ানমার সরকারের। ফ্রান্স ভিত্তিক দাতব্য চিকিৎসা সংস্থা মিতস সঁ ফ্রঁতিয়ে কর্তৃপক্ষ রাখাইনে তাদের ক্লিনিক পুড়িয়ে দেওয়ার খবর দিয়েছে।

 

SHARE