রাম রহিমের পালানোর চেষ্টা : চার পুলিশ গ্রেপ্তার

দুই নারী ভক্তকে ধর্ষণের দায়ে ২০ বছরের কারাদ-াদেশপ্রাপ্ত ভারতের কথিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিং দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরপরই পালানোর ছক কষেছিলেন। সেই ছক অনুয়ায়ী তাঁর পালানোর চেষ্টায় সহায়তা করায় পুলিশের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর রাম রহিমকে কারাগারে নেওয়ার সময় স্বঘোষিত এই আধ্যাত্মিক নেতার ‘কমান্ডোরা’ তাঁকে মুক্ত করার চেষ্টা চালান। এতে ওই চার পুলিশ সদস্য সহযোগিতা করেন। পরে তাঁদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। হরিয়ানার পঞ্চকুলার পুলিশ কমিশনার এ এস চাওলা বলেন, পুলিশের ওই চার সদস্যের মধ্যে তিনজন হরিয়ানার আর একজন রাজস্থানের। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাম রহিমকে নিয়ে পালানোর পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে গ্রেপ্তার চার পুলিশ সদস্য রয়েছেন। তবে তাঁদের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি পুলিশ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া চার পুলিশ সদস্য অনেক বছর ধরে রাম রহিমের অনুসারী। তাঁরা রাম রহিমের ক্ষমতাবলেই সরকারি চাকরি পেয়েছিলেন বলে জানা গেছে। গত ২৫ আগস্ট ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করার দিনে পঞ্চকুলা আদালত চত্বরে রাম রহিমের পাশেই ছিলেন তাঁরা। এর আগে গুরগাঁওয়ে সংবাদ সম্মেলনে হরিয়ানা পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) কে কে রাও বলেছিলেন, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরপরই রাম রহিম সিরসা থেকে লাল একটি ব্যাগ চেয়েছিলেন। ডেরাপ্রধান রাম রহিম বলেছিলেন, ওই ব্যাগেই তাঁর জামাকাপড় রয়েছে। কিন্তু আসলে এটা ছিল একটা ইঙ্গিত। এর মাধ্যমে রাম রহিম ভক্তদের জানাতে চেয়েছিলেন, তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল ভক্তরা যাতে বিক্ষোভ করতে পারেন।
নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীরা রাম রহিমকে সরিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছেনÑএমন খবর আগেই পেয়েছিল পুলিশ। তাই দোষী সাব্যস্ত করার পর বিতর্কিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংকে পঞ্চকুলার বিশেষ আদালত থেকে রোহতক কারাগারে নেওয়া হয়।
গত ২৫ আগস্ট দুই নারী ভক্তকে ধর্ষণের অভিযোগে করা দুটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয় রাম রহিমকে। এরপর নেওয়া হয় রোহতক শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরের সানোরিয়া কারাগারে। এতে রাম রহিমের সমর্থকেরা পঞ্চকুলা এলাকায় তা-ব শুরু করেন। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে ৩১ জন নিহত ও ২৫০ জন আহত হন। পরে গত ২৮ আগস্ট রাম রহিমকে দুটি মামলায় ১০ বছর করে ২০ বছরের কারাদ-াদেশ দেন সিবিআই আদালত।

SHARE