চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১১ লাখ ২৯ হাজার ৮৮৪টি ইঁদুর নিধন > বছরে ক্ষতি ২ হাজার কোটি টাকা

প্রতিবছর সারা বিশ্বে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার ধানসহ অন্যান্য খাদ্য শস্য ক্ষতি করে ইঁদুর। বাংলাদেশে খাদ্য শস্য ক্ষতি করে ৫ থেকে ৭ ভাগ। তবে ইঁদুর নিধনের ফলে প্রায় ১ হাজার মে.টন খাদ্যশস্য রক্ষা পায়। ইঁদুর মানুষ কিংবা পরিবেশের বন্ধু নয়-শত্রু। তাই ২০১৬ ও চলতি বছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫ উপজেলায় ১১ লাখ ২৯ হাজার ৮৮৪টি ইঁদুর নিধন করা হয়েছে। গত কাল বুধবার জেলা পর্যায়ে ইঁদুর নিধন অভিযান ২০১৭ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়।
বিকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত ইঁদুর নিধন অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মঞ্জুরুল হুদার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাল্টিমিয়ায় ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে ইঁদুর সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন জেলা কৃষ্ িসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি প্রকৌশলী শাহ সাইদুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সদর উপজেলা কৃষি অফিসার ড. জাহাঙ্গীর ফিরোজ। অতিরিক্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কানিজ তাসনোভা’র সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, গোবরাতলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আসজাদুর রহমান মান্নু মিঞা, কৃষক মি. কর্ণেলিউস মুরমু, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আমানুল্লাহ।
কৃষি প্রকৌশলী শাহ সাইদুর রহমান তাঁর উপস্থাপনায় জানান, ইঁদুর মানুষের ব্যক্তিগত ও জাতীয় শত্রু। ইঁদুর ফসল, রাস্তাঘাট, খামার, বাঁধসহ মানুষের সকল সম্পদের ক্ষতি করে। প্লেগসহ প্রায় ৩০ টি মারাত্মক রোগের বাহক ও বিস্তারকারী এই ইঁদুর। ইঁদুর বছরে ৬ থেকে ৮ বার বাচ্চা দেয়, প্রতিবারে ৩ থেকে ১৩ টি পর্যন্ত বাচ্চা দিতে পারে. বাচ্চা প্রসবের মাত্র ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আবারও গর্ভধারন করতে পারে, তিন মাসের মধ্যেই ইঁদুর বড় হয়ে আবার বাচ্চা দিতে পারে, প্রতি জোড়া ইঁদুর বছরে প্রায় ৩ হাজার ইঁদুর জন্ম দিতে পারে। তিনি আরও জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের দেলবাড়ি গ্রামের কৃষক মি. কর্নেলিউস মুরমু ৯ হাজার ৯৫০টি ইঁদুর নিধন করেন। তিনি জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কারও পেয়েছেন।
ইঁদুর নিধন ও দমনে জনসচেতা বৃদ্ধিতে প্রচার প্রচারণা জোরদার করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

SHARE