বড় ধরনের হ্যাকিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার সামরিক তথ্য চুরি

‘বড় ধরনের’ হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা কর্মসূচীর স্পর্শকাতর তথ্য চুরি করা হয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, সরকারি এক ঠিকাদার কোম্পানির তথ্যভা-ার হ্যাক করে সাইবার চোরেরা প্রায় ৩০ গিগাবাইট তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে। এসব তথ্যের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার নতুন যুদ্ধবিমান ও নৌবাহিনীর জাহাজের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ছিল। দেশটির সরকার জানিয়েছে, তথ্যগুলো বাণিজ্যিকভাবে স্পর্শকাতর হলেও গোপনীয় ছিল না। এর পেছনে কোনো রাষ্ট্রের হাত আছে কি না তা তাদের জানা নেই বলে জানিয়েছে সরকার। অস্ট্রেলিয়ার সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা রহস্যময় ওই হ্যাকারকে ‘অ্যাল্ফ’ নামে চিহ্নিত করেছে। অস্ট্রেলিয়ায় ও অন্যান্য দেশে সম্প্রচারিত একটি টেলিভিশন সিরিজের এক চরিত্রের নাম এটি। গত বছরের জুলাই থেকে এই তথ্যচুরি শুরু হলেও নভেম্বরের আগ পর্যন্ত ওই বিষয়ে সতর্ক হয়নি অস্ট্রেলিয়ার সিগন্যাল ডিরেক্টরেট (এএসডি)। হ্যাকারের পরিচয়ও শনাক্ত করা যায়নি। হ্যাকারের সংখ্যা একজন থেকে কয়েকজন হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্প বিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস্টোফার পাইন। এটি রাষ্ট্রীয় কেউও হতে পারে অথবা রাষ্ট্রীয় কেউ না। এ ছাড়া এমনও কেউ হতে পারে যে অন্য কোনো কোম্পানির হয়ে কাজ করছে, বলেন তিনি। এই চুরির কারণে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা কোনো ঝুঁকিতে পড়বে না বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। এএসডির ইনসিডেন্ট রেসপন্স ম্যানেজার মিচেল ক্লার্ক হ্যাকিংটিকে ‘ব্যাপক ও চরম’ বলে বর্ণনা করেছেন। চুরি হওয়া তথ্যগুলোর মধ্যে দেশটির এক হাজার ৩০০ কোটি ডলারের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচী, সি১৩০ পরিবহন বিমান এবং পি-৮ পোসেইডন গোয়েন্দা বিমান, পাশাপাশি নৌবাহিনীর কয়েকটি যুদ্ধজাহাজের তথ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সিডনিতে অনুষ্ঠিত এক নিরাপত্তা সম্মেলনে ক্লার্ক জানান, হ্যাকার সরকারি ওই ঠিকাদারের ব্যবহৃত একটি সফটওয়্যারের দুর্বলতা ব্যবহার করে এ কাজ করেছে। ১২ মাস ধরে ওই সফটওয়্যারটি আপডেট করা হয়নি বলে এবং ওই অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মটিও ক্রুটিযুক্ত পাসওয়ার্ড ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ডিসেম্বর থেকে এএসডির কর্মকর্তারা ওই সিস্টেমটি সারানোর কাজ শুরু করে।

 

 

SHARE