বাল্যবিয়ে বন্ধে সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরী

57

gourbangla logoদেশে বাল্যবিয়ে রোধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে ৩৭ দফা নির্দেশনা পাঠানোর যে খবর সোমবারের একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে, তা এই সামাজিক সংকট মোকাবেলায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আমরা আশাবাদী। বস্তুত এই জেলায় বিবাহ রেজিস্ট্রার বা কাজীদের প্রশিক্ষণ ও তাদের মধ্যে বাল্যবিয়ের ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টিসহ অভিভাবকদের সচেতনতার তাগিদ দিয়ে আমরা ইতোমধ্যে লেখালেখি করেছি। ইতোমধ্যে প্রশাসন সক্রিয়ভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে এটা নি:সন্দেহে ভালো খবর। বিয়ে পড়ানোর সঙ্গে যুক্ত ৫৫ হাজার ব্যক্তির ডাটাবেজ তৈরির খবর স্বভাবতই এ ক্ষেত্রে জাতীয়ভাবে বড় অগ্রগতি। পাশাপাশি মৌলভি বা পুরোহিতদের প্রশিক্ষণ জরুরী। কারণ বিয়ের বেশিরভাগ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা তাদের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়ে থাকে। কাবিননামায় বর-কনের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি যুক্ত করার নিয়ম তাদের বয়স যাচাইয়ে সহায়ক হবে নিশ্চয়ই। অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বাল্যবিয়ে নিরোধ সংক্রান্ত আলোচ্য সভায় বাল্যবিয়ের হার ২০০৬ সালের ৭৪ শতাংশ থেকে ২০১৩ সালে ৫২ শতাংশে নামার যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তাতে স্বস্তি পাওয়া কঠিন। এর অর্থ, এখনও অর্ধেকের বেশি কন্যাশিশু বাল্যবিয়ের শিকার হয়ে চলছে! বেসরকারি হিসাবে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। আমাদের মনে আছে, গত বছর নভেম্বরে আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোর‌্যাম ইন্টারন্যাশনালের যৌথ এক জরিপে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ৭৩ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়। বাল্যবিয়ের এই হার নিঃসন্দেহে উচ্চমাত্রার এবং এই চিত্র আমাদের উদ্বিগ্ন না করে পারে না। এই চিত্র আমাদের স্বভাবতই এমন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয় যে, এই আঁধার কি কাটবে না? ইতোমধ্যে প্রণীত বিভিন্ন বিধিবিধান এবং গৃহীত প্রশাসনিক ও সামাজিক ব্যবস্থা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমের প্রভাব কেন পড়ছে না, খতিয়ে দেখতে হবে গুরুত্বের সঙ্গে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় প্রশাসনের বাধার মুখে বাল্যবিয়ের আয়োজন ভেস্তে যাওয়ার খবর আমরা প্রায়শই সংবাদমাধ্যমে দেখে থাকি। একই সঙ্গে অভিভাবকদের সচেতনতা জরুরি। জরুরি স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয়তাও। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পর এ ক্ষেত্রে সক্রিয়তা চাাঁপাইনবাবগঞ্জে গুরুত্বের সাথে কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। গত সোমবার নিকাহ রেজিস্টার ও কাজীদের নিয়ে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে মতবিনিময় করেছেন জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম। আগামী ৩মাসের মধ্যে এই জেলাকে বাল্য বিয়ে মুক্ত করার লক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়। এই সভা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে যত উন্নতি করি না কেন, বাল্যবিয়ের কারণে তা নড়বড়ে হয়ে পড়তে পারে। ২০১৪ সালে ‘গার্লস সামিটে’ উপস্থিত থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ১৫ বছরের নিচে বাল্যবিয়ের হার শূন্য করার যে অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রী করেছেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তা বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে না। এ কাজে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকার পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, নিকাহ রেজিস্টার বা কাজী, অভিভাবকসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই বাল্যবিয়ে বন্ধ হবে।

SHARE