স্থায়ী সমাধান দরকার গম আমদানিতে

70

gourbangla logoপাকিস্তান আমলে একবার স্কুলের টিফিনে ভুট্টার রুটি ও রেশনে ভুট্টা দেওয়ার বিরুদ্ধে স্লোগান উঠেছিল- ‘আমরা বাংগালি ভুট্টা খাই না।’ খাদ্যাভাবের পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের আবহে আবেগসঞ্জাত ওই স্লোগানের রাজনৈতিক ভূমিকা ছিল। এখন খাদ্য বাছাই ব্যক্তির স্বাধীন রুচিনির্ভর এবং খাদ্য-বৈচিত্র্য বেড়েছে। ভুট্টাজাত বহু খাদ্য আমাদের রসনা তৃপ্ত করছে। সে আমলে গমের রুটিকেও ‘অবাঙালির খাদ্য’ মনে করার প্রবণতা ছিল। এখন তা কেউ ভাবে না। বরং রুটি স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের আদরণীয়। বিচিত্র খাদ্যপণ্যে গমের ব্যবহার। এখন বছরে ৪০ লাখ টন গম আমদানি হয়। আবাদও বেড়ে বছরে ১৩ লাখ টন ছাড়িয়েছে। সামরিক-বেসামরিক বাহিনীগুলোর জন্য গম ব্যবহার করে সরকার। সরকার দেশি গম কেনে ও সামান্য আমদানি করে। বেসরকারি খাত সিংহভাগ আমদানি করে সরকারি গুদামে সরবরাহ করে। গত বছর থেকে নিম্নমানের গম আমদানি একটি শোরগোল তোলা সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ব্রাজিল থেকে আমদানি করা পচা গম ঢুকতে না দিতে সরকারদলীয় সাংসদরাও গুদাম অবরোধ করেছেন। সংসদে ঝড় উঠেছে। আদালতে রিট হয়েছে। মানুষের খাদ্য না ঘোড়ার খাদ্য সে পরীক্ষা করাতে হয়েছে। তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম প্রথমে গমের পক্ষে দাঁড়ালেও পরে বলেন, ব্রাজিল থেকে আর গম আনা হবে না। পরে আসছে ফ্রান্স ও রাশিয়া থেকে। বুধবার সমকালে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, রাশিয়া থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা এক লাখ টন গম নিম্নমানের বলে খাদ্য অধিদপ্তর জাহাজ ফেরত পাঠাতে বলেছে। ৫০ হাজার টনের আরেকটি জাহাজ পথে। ব্যবসায়ীরা মংলা বন্দরে খালাস করানোর উপায় খোঁজেন। বেসরকারিভাবে খালাস করাতে চান। সরকারি গুদামের বদলে বাজারে বিক্রি হলেও তো মানুষের খাদ্য হিসেবেই পরিবেশিত হবে। খাদ্য দপ্তর যে কড়াকড়ি করছে তা আমরা সমর্থন করি। কেউ যেন নিম্নমানের গম গছিয়ে দিয়ে জনস্বাস্থ্যের বিনিময়ে বাড়তি মুনাফা করতে না চান। তবে ব্যবসায়ীরা গম আনার পর যে বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হন সেজন্য জাহাজিকরণের আগে মান পরীক্ষার ব্যবস্থা করা যায় কি-না সেটাসহ অন্যান্য উপায় ভেবে দেখে একটি স্থায়ী সমাধান দরকার।

SHARE