সুইজারল্যান্ডের স্কুলে নারী শিক্ষকদের সঙ্গে হাত না মেলানোর অনুমতি, ক্ষোভ

53

gourbangla logoসুইজারল্যান্ডে একটি মাধ্যমিক স্কুল দুই মুসলিম ছাত্রকে নারী শিক্ষকদের সঙ্গে হাত না মেলানোর অনুমতি দেওয়ায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
শিক্ষকদের সঙ্গে হাত মেলানো স্যুইস স্কুলগুলোর একটি সাধারণ রীতি।
বিবিসি বলছে, এই রীতির কথা মাথায় রেখে দেশটির উত্তরাঞ্চলের ছোট্ট শহর থেরউয়িলের ওই স্কুলকে দুই মুসলিম ছাত্র জানায়, পরিবারের বাইরে কোনো নারীকে স্পর্শ করা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরোধী। এই কথা জানার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ ১৪ ও ১৫ বছর বয়সী ওই দুই ছাত্রকে নারী শিক্ষকদের সঙ্গে হাত না মেলানোর অনুমতি দেয়। এই খবর থেরউয়িলের ১০ হাজার বাসিন্দার মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভ দেখা দেয়। ক্রমে তা জাতীয় বিতর্কের বিষয়ে পরিণত হয়। কাছাকাছি আর একটি শহরে একই ধরনের আরেকটি ঘটনার কথাও এ সময় প্রকাশ পায়। শিক্ষকদের স্থানীয় একটি ইউনিয়ন, স্কুল কর্তৃপক্ষের এই অনুমোদনকে নারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য বলে অভিযোগ তোলে। স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তা ক্রিস্টিয়ান আমসলার মন্তব্য করেন, সম্ভবত অস্বস্থিকর একটি সমস্যাকে এড়াতে গিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ একটি ভুল করে বসেছে। বেশ কয়েক বছর ধরে সুইজারল্যান্ডে বসবাস করে আসা দুই ছাত্রকে এ ধরনের বিশেষ অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি প্রায় কেউই সমর্থন করেননি। থেরউয়িলের মেয়র রেটো উল্ফ জানান, স্কুলের এই সিদ্ধান্তে শহরবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে আছে। দেশটির বিচারমন্ত্রী সিমোনেত্তা সোমারুগা বলেছেন, হাত মেলানো সুইজ্যারল্যান্ডের সংস্কৃতি ও দৈনন্দিন জীবনের অংশ।
তিনি বলেন, আমাদের সংস্কৃতি ও পারস্পরিক যোগাযোগে হাত মেলানো একটি স্বাভাবিক বিষয় এবং এতে অন্যদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ পায়। স্যুইস পার্লামেন্টের শিক্ষা কমিশনের প্রধান ও অভিবাসন-বিরোধী স্যুইস পিপলস পার্টির সদস্য ফেলিক্স মুয়েরি বলেছেন, স্কুলের এই সিদ্ধান্তে ভুল বার্তা প্রকাশ পাচ্ছে।
তিনি বলেন, আজ হ্যান্ডশেক, কাল কী? দেশটির মুসলিম গোষ্ঠীগুলোও স্কুলটির এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে। নারী শিক্ষকদের সঙ্গে হাত মেলানো যাবে না, কোরানের কোথাও এ ধরনের কোনো কথা নেই বলে জানিয়েছে স্যুইস ফেডারেশন অব ইসলামিক অর্গানাইজেশন। প্রোগ্রেসিভ ইসলাম নামের এক ফোরামের নেতা সাইদা কেলের-মেশাহলি কট্টরপন্থিদের দাবি পূরণ না করতে স্যুইসদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। চাপের মধ্যে পড়ে যাওয়া স্কুলটি পরিস্থিতি সামলাতে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, ওই দুই মুসলিম ছাত্র নারী বা পুরুষ কোনো শিক্ষকের সঙ্গেই হাত মেলাবে না। চাপের মধ্যেও স্কুলের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্কুলটির প্রধান শিক্ষক। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ স্কুলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো রায় দিলে তা মেনে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি সামলাতে স্কুলটি বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও আইন সবার জন্য প্রযোজ্য বিধায় এই সিদ্ধান্ত স্থায়ী কোনো সমাধান নয় বলে মত প্রকাশ করেছেন স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তারা।

SHARE